+880 1714-486678        info@balakatravels.net

হজে যেতে চাইলে এখনই নিবন্ধন

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ আগস্ট পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। যাঁরা ইতিমধ্যে প্রাক্‌–নিবন্ধন করেছেন এবার হজে যেতে চান, তাঁদের এখনই প্রস্তুতি শুরু করা দরকার।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন সৌদি আরবে যেতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন, অন্যরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

এবার কত টাকা লাগবে
সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ রয়েছে। একটি প্যাকেজে হজযাত্রীর খরচ হবে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা, অন্যটিতে খরচ হবে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৮০ টাকা। এ ছাড়া কোরবানির জন্য প্রতিটি প্যাকেজে আরও খরচ হবে ১১ হাজার ৮১২ টাকা (৫২৫ রিয়াল)।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানালেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্যাকেজ রয়েছে। বেসরকারিভাবে সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা।

পরামর্শ
ভাষার ভিন্নতা, নতুন দেশ, নতুন পরিস্থিতির কারণে কিছুসংখ্যক হজযাত্রী সমস্যায় পড়ে থাকেন। কয়েকবার হজ পালন করেছেন, এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কিছুটা ধারণা থাকলে, সচেতন হলে অনেক সমস্যা দূর করা যায়। হজযাত্রীদের সুবিধার্থে তাঁদের দেওয়া কিছু পরামর্শ:

১. সব ধরনের খরচ সম্পর্কে ধারণা রাখা: টাকা কম-বেশির ভিত্তিতে নয়, প্যাকেজের সুবিধাদি দেখে, শুনে, বুঝে চুক্তি করবেন। বিমানভাড়া, বাসাভাড়া, হজের সময় মিনায় তাঁবুতে বা আজিজিয়ায় থাকা না–থাকা, ফিতরা ইত্যাদি আগে থেকে জেনে নিতে হবে।
২.  হজ প্যাকেজ: হজ প্যাকেজ কত দিন, সৌদি আরবে অবস্থানের মেয়াদ কত দিন, কোথায় কত দিন অবস্থান এবং তা কীভাবে, বিস্তারিত জানতে হবে।
৩.  মক্কামদিনায় বাসার অবস্থান: মক্কা-মদিনার বাসার ধরন এবং তা কাবা শরিফ থেকে কত দূরে, জেনে নেবেন।
৪. খাবার: সৌদি আরবে পৌঁছে তিন বেলা খাবার দেওয়া হবে কি না বা বিকল্প ব্যবস্থা কী, তা জানতে হবে।
৫. কোরবানি: প্রতারণা এড়াতে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক বা আইডিবির কুপন কিনে দেওয়া ভালো।
৬. মানসিক শারীরিক সক্ষমতা: হজের সফরে মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা জরুরি।
৭.   ফিতরা: ফিতরা বা স্থানান্তর (অর্থাৎ মক্কার বাসা কাবা শরিফের কাছে-দূরে একাধিকবার বদল করাকে ফিতরা বলে) আছে কি না। হজের আগে না পরে ফিতরা হবে, তা জানতে হবে।
৮. হজের দিনগুলো: মোয়াল্লেম কী কী সুবিধা দেবেন, বিস্তারিত জেনে নেবেন।
৯. হজের নিয়মকানুন জানা: প্রয়োজনীয় বই-পুস্তক, হজ গাইড সংগ্রহ করে পড়ুন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মক্কা মদিনার পথেপ্রান্তরে বই পড়তে পারেন।
১০. ঘোষিত হজ প্যাকেজের চেয়ে কম টাকায় হজে গেলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

• হজযাত্রীদের প্রাক্‌-নিবন্ধন, নিবন্ধন এবং সর্বশেষ নির্দেশনা, সংবাদ ও প্রয়োজনীয় ফরম ডাউনলোড করা যাবে (www.hajj.gov.bd) ঠিকানায়। তথ্যসেবাকেন্দ্রে ০৯৬০২৬৬৬৭০৭
• নিবন্ধন সনদ ও হজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফরম-১৫ সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির চুক্তির মূল কপি সংরক্ষণ করুন।

প্রাক্নিবন্ধন বাতিল করতে চাইলে
প্রাক্-নিবন্ধনের জন্য অগ্রিম টাকা প্রদান করে যদি কেউ হজে না যান, তাহলে প্রসেস ফি ৩ হাজার টাকা বাদ দিয়ে বাকি টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। টাকা জমা দেওয়া ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে।

পাসপোর্ট বানাবেন যেখানে
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী হজযাত্রীরা নিজ নিজ জেলা অনুযায়ী পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে ওই জেলায় বসবাসকারীরা এমআর পাসপোর্ট বানাতে পারবেন। আবেদনপত্রসহ আরও তথ্য (www.passport.gov.bd) ঠিকানায় পাওয়া যাবে।

এবার হজ প্যাকেজে যুক্ত হয়েছে
•  এবার হজ প্যাকেজে সৌদি সরকারের ৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
• সৌদি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী মিনার তাঁবুতে বহুতলা খাটের ব্যবস্থা থাকতে পারে।
• ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য ১ জন গাইড থাকবেন।
• যেসব ব্যক্তি একাধিকবার হজ করছেন, এবার হজ করলে অতিরিক্ত ২ হাজার ১০০ সৌদি রিয়াল পরিশোধ করতে হবে।
• যদি কেউ আলাদা ফ্লাইটে সফর করতে চান, তাহলে অবশ্যই আলাদাভাবে নিবন্ধন করবেন।
• নিবন্ধন করে হজযাত্রা বাতিল করতে চাইলে লিখিতভাবে হজ অফিস পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে ।
• জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী এমআরপি পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত মেয়াদ থাকতে হবে । পাসপোর্টের তথ্যপাতায় স্ট্যাপলার পিন বা ছিদ্র করবেন না।
• প্রাক্‌–নিবন্ধিত হজযাত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ জমা দেবেন।
• এজেন্সি ও হজযাত্রীর মধ্যে চুক্তির (ফরম-১৫) কপি হজযাত্রী সংরক্ষণ করবেন।
• ট্রলিব্যাগ হজযাত্রীকে নিজ দায়িত্বে কিনতে হবে।
• হজযাত্রীর অভিযোগ থাকলে (ফরম ১৭ ক বা ১৭ খ) জানাতে পারবেন।
• প্রত্যেক হজযাত্রীকে তাঁর পাসপোর্টের সঙ্গে মক্কা ও মদিনার ভাড়াকৃত বাড়ি বা হোটেলের স্টিকার সংযুক্ত করতে হবে।
• প্রাক্‌-নিবন্ধন, নিবন্ধন, ভিসা বা হজ ব্যবস্থাপনায় কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে তার দায়-দায়িত্ব হজযাত্রী ও হজ এজেন্সির ।

* বিস্তারিত হজ প্যাকেজ (www.hajj.gov.bd) ঠিকানায়

ভিআইপি হজ প্যাকেজে সাবধান
বিলাসবহুল হজ প্যাকেজ, যা ভিআইপি প্যাকেজ নামে বেশি পরিচিত। ভিআইপি প্যাকেজ ১৫ থেকে ২০ দিন। খরচ ৫ থেকে ১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। গত হজে এক দম্পতি ১২ লাখ টাকা খরচ করে মক্কায় পৌঁছে দেখেন, হিল্টন হোটেল তো দূরে থাক, কাবা শরিফ থেকে ১ হাজার ৩০০ মিটার দূরের এক বাসায় তাঁদের থাকতে দেওয়া হয়। এত টাকা দেওয়ার পরও কেন বিড়ম্বনা? মূলত তথ্য না জানা এবং কৌশলগত কারণেই হজযাত্রীরা প্রতারিত হন। মক্কায় যে কক্ষের ভাড়া ৩ জিলহজ পর্যন্ত ১০ হাজার রিয়াল, সেই কক্ষ জিলহজের ৪ তারিখ থেকে এক লাখ সৌদি রিয়াল হয়। অর্থাৎ তারিখ অনুযায়ী ভাড়া কমবেশি হয়। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা সরল মনে এজেন্সির লোকের কথা বিশ্বাস করেছেন। পাঁচ তারকা হোটেলে থাকার চুক্তিপত্র বা বুকিং আদৌ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও তাঁরা যাচাই করেননি। কারণ, বুকিং দিলে চুক্তিপত্র অথবা রিয়াল আদায়ের রসিদ থাকবে। বেশি টাকা দিয়েও হজ করতে এসে প্রতারিত হওয়া প্রসঙ্গে মক্কায় বসবাসকারী নাজমুল হক জানালেন, ভিসা হওয়ার আগে মক্কা-মদিনার বাসার কাগজপত্র ঠিক করতে হয়। বাসাভাড়ার চুক্তির ফটোকপি হজযাত্রী এজেন্সির কাছে চাইতে পারেন। হজযাত্রী তা সংরক্ষণ করবেন। তাহলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কম। আরেকটি বিষয় হলো, কোন তারিখে, কোথায়, কত দিন থাকবেন, সংক্ষিপ্ত প্যাকেজ নাকি ফিতরা—এসব পরিষ্কার থাকা দরকার।

  • ভিআইপি বলতে আপনি মক্কা, মিনা, মদিনা—তিনটি স্থানের জন্য ভিআইপি? নাকি একক স্থানের জন্য, তা জেনে নিন।
    • এজেন্সি মালিকের সঙ্গে তথ্যগত কোনো অসংগতি (গ্যাপ) রাখবেন না। শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন না।
    • রমজান মাসের মধ্যে আপনার কাঙ্ক্ষিত তারিখ অনুযায়ী হোটেল বুকিং, বিমান বুকিং, কাগজ দেখবেন ঠিক আছে কি না। মিনার চুক্তি, বাড়িভাড়ার চুক্তি আরবিতে থাকলে তা অনুবাদ করে মিলিয়ে দেখুন।
    • নিবন্ধিত কি না ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে হজ ওয়েবসাইটে তথ্য যাচাই করুন।
    • সৌদিদের কাছে সব হজযাত্রী সমান । ভিআইপি হওয়ার প্রত্যাশা করলে প্রতারিত হতে পারেন। পদ–পদবি, সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে নয়, বিভিন্ন সেবা পেতে চাইলে, অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কিনতে হবে।
    • সৌদি আরবে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হাতে পাবেন না।

হজযাত্রীর টাকা কোন খাতে খরচ হয়
ধরুন আপনি ১০০ টাকা দিয়েছেন। (এ বছর একজন হজযাত্রী ন্যূনতম প্যাকেজ মূল্য ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা জমা দেবেন।) এখন দেখা যাক হজ প্যাকেজে এ টাকাটা কোথায় ব্যয় হয়। যেমন আপনার ১০০ টাকার ৩৭.২১ টাকাই বিমানভাড়া হিসেবে ব্যয় হবে।

বিমানভাড়া (ঢাকাজেদ্দাঢাকা)
৩৭.২১ টাকা

বাড়িভাড়া (মক্কামদিনা)
৩১ টাকা

খাবার খরচ (সৌদি আরব)
৮.৭২ টাকা

বাসভাড়া (জেদ্দা, মক্কা, মদিনা, মিনা)
১১.৮৮ টাকা

স্থানীয় সার্ভিস ফি (সৌদি আরব)
০.২৩ টাকা

গাইড
১.৭২ টাকা

অন্যান্য
৯.২৪ টাকা

সব ধরনের খরচ সম্পর্কে ধারণা রাখুন
টাকা কম-বেশির ভিত্তিতে নয়, প্যাকেজের সুবিধাদি দেখে, শুনে, বুঝে চুক্তি করবেন। বিমানভাড়া, বাসাভাড়া, হজের সময় মিনায় তাঁবুতে বা আজিজিয়ায় থাকা না–থাকা, ফিতরা ইত্যাদি আগে থেকে জেনে নিতে হবে।

 

নোটিশ
  • অস্ট্রেলিয়ায় সত্যায়ন করতে পারবেন মাইগ্রেশন এজেন্টরাRead more... 05 / 03 /2019
  • হজ প্যাকেজ ঘোষণাRead more... 05 / 03 /2019
  • মদিনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশRead more... 05 / 03 /2019
  • হজে যেতে চাইলে এখনই নিবন্ধনRead more... 05 / 03 /2019
  • আজই ঘুরে আসুন বিশ্বের অন্যতম আধুনিক শহর সংযুক্ত আরব আমিরাত ( দুবাই)Read more... 22 / 07 /2018
search here